প্রবেশদ্বার
তুমি কিছুই ধরে রাখতে পারো না।
ধরে রাখতে চাওয়াই — সব ভেঙে দেয়।
দশটি ঘর। দশটি ছোট মৃত্যু। কোনো তাড়া নেই — ধীরে ধীরে হেঁটে যাও।
প্রদর্শনী
দশটি ঘর
“যা একবার পুড়ে যায়, তা আর ফেরে না।”
তোমার দুঃখ লেখো। আগুনে দিয়ে দাও। শুধু একটিমাত্র শব্দ বেছে নাও — যেটা বাঁচবে। বাকি সব ছাই হয়ে ঝরে পড়বে, চিরতরে।
“একটি জোনাকি জ্বলে ওঠে। কেউ জানে না কবে নিভবে।”
অন্ধকারে একটি আলো তোমাকে চিনে নেবে। দিনের পর দিন কাছে আসবে, ভালোবাসবে। তারপর কোনো এক দিন — বিনা নোটিশে — নিভে যাবে। আর কখনো ফিরবে না।
“বাতাস নিষ্ঠুর হয়। শিখা কেঁপে ওঠে। হাত ব্যথা করে।”
একটি প্রদীপের শিখা আগলে রাখো। বাতাস বাড়তেই থাকবে, আঙুল অসাড় হয়ে আসবে। ছেড়ে দেওয়া অনিবার্য — শুধু কখন, সেটুকুই তোমার হাতে।
“প্রতিটি পলকে একটি বছর চলে যায়।”
একটি গোটা জীবন কেটে যাবে তোমার চোখের সামনে। যতবার সত্যি সত্যি চোখের পাতা ফেলবে, সময় লাফ দিয়ে এগোবে। পুরো জীবনটা তুমি কোনোদিন দেখতে পাবে না।
“একই বৃষ্টিতে দুজন অচেনা মানুষ।”
পৃথিবীর কোনো এক প্রান্তে একজন অচেনা মানুষের সঙ্গে তোমাকে মেলানো হবে। তিন মিনিট, একসাথে, একই বৃষ্টিতে বসবে। কোনো কথা নয়। শেষে শুধু একটিমাত্র বাক্য। তারপর — চিরতরে বিচ্ছিন্ন।
“ভালোবাসা দিতে পারি, তোমরা কি গ্রহণে সক্ষম?”
এমন কাউকে চিঠি লেখো, যার কাছে তা কোনোদিন পৌঁছবে না। পাঠিয়ে দাও অন্ধকারে। বিনিময়ে পাবে এক অচেনা মানুষের না-পাঠানো চিঠি — একবার পড়ার জন্য।
“দাঁড়াও, পথিক-বর, তিষ্ঠ ক্ষণকাল!”
যাকে ভুলে যেতে সবচেয়ে বেশি ভয় পাও, তার নাম লেখো। দেখো কীভাবে সেটা মুছে যায় অজস্র নামের ভিড়ে। ছুঁয়ে গেলে এক মুহূর্ত জ্বলে ওঠে — তারপর আবার অন্ধকার। ধরে রাখা যায় না।
“অবনী, বাড়ি আছো?”
কুয়াশার ভেতর শুধু সামনে হাঁটা যায়। পেছনের সব মিলিয়ে যায়, ফেরার পথ থাকে না। কিছু মুহূর্ত ভেসে ওঠে এক নিঃশ্বাসের জন্য — তারপর চিরতরে হারিয়ে যায়।
“ভাঙা কণ্ঠে কবিরা ফিসফিস করেন।”
গভীর রাতের একটা পুরোনো রেডিও। ঘোরাও। স্থির কোনো স্টেশন নেই — শুধু ভাঙা ভাঙা পঙক্তি, জীবনানন্দ থেকে লালন, সুকান্ত থেকে জসীমউদ্দীন। ধরতে গেলেই সরে যায়।
“খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কেমনে আসে যায়।”
যাকে আর ধরে রাখা যায় না, তার জন্য একটা প্রদীপ জ্বালো। জলে ভাসিয়ে দাও। স্রোত তাকে নিয়ে যাবে দূরে, অন্ধকারে — আর কখনো ফিরবে না।
“যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন এই বাটে,
বাইব না মোর খেয়াতরী এই ঘাটে —
আমায় তখন নাই বা মনে রাখলে।” রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সমাধিক্ষেত্র
লক্ষ লক্ষ ছোট ছোট বাঙালি দুঃখ,
পাশাপাশি শুয়ে আছে।
এখানে প্রতিটি নিভে যাওয়া আলোর একটি কবর। তুমি কখনো একা শোক করো না।
থাকে শুধু অন্ধকার, মুখোমুখি বসিবার বনলতা সেন।” জীবনানন্দ দাশ
আবার আসিব ফিরে।
ধানসিঁড়িটির তীরে — এই বাংলায়।